ভুলে গোনাহ করে ফেললে সঙ্গে সঙ্গে যে আমল ও দোয়া করবেন


ইচ্ছা-অনিচ্ছায় অনেক ভুল করে মানুষ। এসব ভুলে অনেক পাপ কাজও সংঘটিত হয়। ভুলের পাপ থেকে বেঁচে থাকতে কুরআন-সুন্নায় সব সময় আল্লাহ তাআলাকে বেশি বেশি ভয় করার কথা বলা হয়েছে। কারণ আল্লাহর ভয় মানুষকে অন্যায়ের পাপ থেকে মুক্ত রাখবে। ভালো কাজের দিকে ফিরে আসার পথ দেখাবে। হাদিসে পাকে এমনটিই বলেছেন স্বয়ং বিশ্বনবি:

হজরত আবু যার জুনদুব ইবনু জুনাদাহ ও আবু আব্দুর রহমান মুআজ ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তুমি যখন যে অবস্থায় থাক না কেন, আল্লাহকে ভয় কর আর প্রত্যেক মন্দ (অন্যায়) কাজের পর ভালো কাজ কর। যা তাকে (মন্দ/অন্যায় কাজকে) মুছে দেবে। আর মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার কর।' (তিরমিজি)

এ হাদিসে ৩টি আমলের কথা বলা হয়েছে। তাহলো:
  1. আল্লাহকে ভয় করা। মানুষ যখন যে অবস্থায় থাকুক না কেন; সব সময় আল্লাহকে ভয় করা। আর অন্যায় কাজ করে ফেললে (বাকি) দুইটি আমল বেশি বেশি করা-
  2.  ভালো কাজ করা। অন্যায় কাজ করে ফেললে সঙ্গে সঙ্গে দেরি না করে মন্দ কাজ ছেড়ে ভালো কাজের দিকে ধাবিত হওয়া। এ ভালো কাজ মানুষকে অন্যায় থেকে ফিরিয়ে রাখবে
  3. মানুষের সঙ্গে সব সময় ভালো ব্যবহার করা।
এ তিন আমলের বিনিময়ে মহান আল্লাহ তাআলা বান্দার ইচ্ছা-অনিচ্ছার সব অন্যায় তথা পাপ ক্ষমা করে দেবেন।

দোয়া

কোনো কারণে গোনাহ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গেই আল্লাহর কাছে ছোট্ট একটি দোয়ার মাধ্যমে ক্ষমা প্রার্থনা করা। হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে এমন একটি দোয়ার আমল রয়েছে। তাহলো-
أَتُوْبُ اِلَى اللهِ مِمَّا أَذْنَبْتُ
উচ্চারণ: ‘আতুবু ইলাল্লাহি মিম্মা আজনাবতু।’

অর্থ: (হে আল্লাহ!) আমি যে গোনাহ করেছি; তা থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, যখনই কোনো কারণে মন্দ বা অন্যায় কাজ ঘটে যায়। তা হোক ঘরে কিংবা বাইরে। যেখানে ঘটবে সেখানেই ওই মুহূর্তে উল্লেখিত দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি বেশি বেশি ভালো কাজের দিকে নিজেকে নিয়োজিত করা। আর তাতে সংঘটিত অন্যায় বা গোনাহ থেকে মুক্ত থাকা যাবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সব সময় ভালো কাজের মধ্যে নিয়োজিত থাকার তাওফিক দান করুন। মন্দ বা অন্যায় কাজ হয়ে গেলে সঙ্গে ভালো কাজ করা ও ইসতেগফার করার তাওফিক দান করুন। আমিন।